-->

ভুতের গল্প Voyonkor Bangla Bhuter Golpo

ভয়ংকর  ভুতের গল্প || Voyonkor Bangla Bhuter Golpo Episode 1

Voyonkor Bangla Bhuter Golpo


আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। আমার মার বয়স তখন ৪ কি ৫ হবে। একদিন দুপুরে আমার নানা-নানী এবং আমার মা বারান্দায় বসে ভাত খাসছিলো। তখন খবর আসে আমার মার নানী মারা গেসে। আমার নানা-নানী তারাতাড়ি ভাত খেয়ে নানা আমার নানী ও মাকে একটি ভ্যানে তুলে দিয়ে। আমার নানা একটি সাইকেলে করে আমার মার নানী বাড়ির দিকে রওনা হয়।

ওখানে গিয়ে আমার মায়ের নানীকে গোসল করিয়ে জানাজা পড়াতে পড়াতে প্রায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে যায়। আমার নানা লাশটি নিয়ে যখন কবর দিতে যাবে তখন আমার মা বায়না ধরে যে,সে কবর দিতে যাবে। কিন্তু বাড়ি থেকে কবরস্থান অনেক দূরে হওয়ায় নানা মাকে নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলো না। তবুও মা বায়না করছিলো যাওয়ার জন্য।

অবশেষে নানা মাকে সেখানে নিয়ে যেতে বাঁধ হয়। যেহেতু মা অনেক ছোট ছিল তাই নানা মাকে কবরস্থানে নিয়ে তার শালার কাছে দিয়ে বলে তুমি তোমার মামার সাথে এখানেই থাকো। এই বলে নানা কবর দেওয়ার জন্য কবরস্থানে ঢুকে পড়ে। কিন্তু মা ছোট থাকায় তার কৌতূহল ও একটু বেশি ছিল। এই জন্য মা তার মামার চোখ ফাঁকি দিয়ে নানীর লাশ দেখতে চলে যায়।

সামনের দিকে নানা থাকায় মা কবরের পিছন দিয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার কারণে মা না দেখে একটি ভাঙা কবরের ভিতর পড়ে যায়। তখন নানা মাকে তারাতাড়ি কবর থেকে উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং মাকে অনেক বকাঝকা করে। মায়ের গায়ে কাদামাটি লাগাতে বাড়িতে আসার পর নানী মাকে ভালো করে গুসল করিয়ে দেয়।

তারপর রাতে খাবার শেষ করে নানা নানীকে বলে অনেক রাত হয়েছে বাড়িতে গরু-ছাগল আছে। আমি বাড়িতে চলে যায়। কালকে সকালে তোমরা চলে এসো। আর তখন মা আবারো বায়না করে নানার সাথে বাড়ি যাওয়ার জন্য। অনেক রাত হয়ে যাওয়ার কারণে নানা মাকে নিয়ে যেতে চাইছিলো না। তবুও মা জোর করে নানার সাথে বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

একটি মাত্র মেয়ে। তাই নানা আর কিছু না বলে মাকে চাইকেলের পিছনে বসিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়। কিছু দূর ঠিক ঠাক যাওয়ার পর নানা মাংস পঁচা একটি বাজে গন্ধ পায়। কিন্তু নানা এটাকে স্বাভাবিক মনে করে চাইকেল চালাতে থাকে। কিন্তু যত সামনের দিকে যাচ্ছিলো পঁচা গন্ধটা ততই ভয়ানক রূপ ধারণ করছিলো। তাই নানা মাকে সাইকেলের সামনে  বসিয়ে একহাত দিয়ে চাইকেল চালাচ্ছিল আর অন্য হাত দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো।

এভাবে কিছুক্ষন যাওয়ার পর যখন গ্রাম পেরিয়ে বিলের মধ্যে প্রবেশ করে। তখন নানা সামনে রাস্তার মধ্যে একটি সাদা কাপড় পরা লাশ পড়ে থাকতে দেখে এবং ওই পঁচা গন্ধটা ওই লাশের শরিল থেকে আসছিলো। নানা ইটা দেখে ভয়পেয়ে চাইকেলটি থামিয়ে মাকে বলে, তাহেরা তুমি চোখ বন্ধ করে থাকো। আমি না বলা পর্যন্ত তুমি চোখ খুলবে না। কপালটা ভালো মা ও সে সময় নানার কথা ভালোভাবে শুনেছিলো।

তারপর নানা মাকে বুকের সাথে চেপে ধরে লাশের পাশকেটে চাইকেল চালিয়ে চলে যায়। তারপর শুরু হয় যত সমস্যা। পিছন থেকে কেউ যেন নানীর কণ্ঠে নানাকে ডাকতে থাকে। আর তখন মা বলে, বাবা মা ডাকছে তাকেও আমাদের সাথে নিয়ে চলো। নানা মাকে বলে, তুমি চোখ বন্ধ করে থাকো। আমি তোমার আম্মুকে নিয়ে জাসছি। এভাবে নানা বিল পেরিয়ে বাড়ির কাছাকাছি একটি মেহেগুনি বাগান পার হওয়ার সময়।

হটাৎ লক্ষ করে মনে হচ্ছে কেউ একজন বাগান থেকে তাদের দিকে ছুতে আসছে। এমন সময় নানা লক্ষ করে তার চাইকেলের সামনে দিয়ে বার বার একটা কালো বিড়াল ঘুরা ঘুড়ি করছে। এটা দেখে নানা খুবই ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু মাকে বাঁচানোর জন্য নানা নিজের মধ্যে সাহস যোগায় এবং দ্রুত ছাইকেল চালাতে থাকে।

যখন বাগান পেরিয়ে যাবে এমন সময় নানা লক্ষ করে তার ডান পাশে একটি গাছের উপর ওই লাশটি বসে আছে। লাশটির মাথা ছিল তার হাতের মধ্যে। নানা ইটা দেখে আরো দ্রুত ছাইকেল চালিয়ে একটু সামনে এসে তার পরিচিত একজন লোকের সাথে দেখা হয় এবং তাকে বলে আমাকে একটু বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসো। আমার সাথে রাস্তায় এমন এমন ঘটনা ঘটেছে। লোকটি বললো কি আমি তো ওযেক রাতে এই রাস্তায় চলো চল করি আমার সাথে তো এমন কোনো সমস্যা হয় নি।

নানা বাড়িতে এসে মাকে গোসল করানোর জন্য যখন মায়ের জামা খুলে তখন মায়ের জামার পকেট থেকে একটি হাড় মাটিতে পড়ে যায়। নানা মাকে প্রশ্ন করলে মা বলে ইটা আমি ওই ভাঙ্গা কবরের ভিতর পেয়ে ছিলাম। খেলা করার জন্য নিয়ে এসেছি। নানা ইটা দেখি মাকে হুজুরের কাছে নিয়ে যায় এবং হুজুর বলে ইটা একটা কাটা আঙুলের হাড়। তোমার সাথে এই ঘটনা হয় তো এই হাড়ের জন্যই ঘটেছে।

ঠিক ওই দিন রাতে নানা স্বপ্নে দেখে। ওই লাশটি টি তাকে বলছে তুই তোর সাহসের জন্য আজ তোর মেয়েকে বাঁচাতে পারলি। নাহলে তোর মেয়েকে আজ মেয়ে ফেলতাম। এর পর আর কোনো সমস্যা হয় নি। এর কয়েক বছর পর আমার বাবার সাথে মায়ের বিয়ে হয়। তারপর আমি জন্মগ্রহণ করি। আমার বয়স যখন ৫ তখন শুরু হয় নতুন ঘটনা। 

ভয়ংকর  ভুতের গল্প || Voyonkor Bangla Bhuter Golpo Episode 1

এক রাতে আমার খুবই বাথরুম চাপে। ছোট ছিলাম তাই একা একা বাথরুম যেতে ভয় পেতাম। কারণ, আমাদের বাথরুমটা বাড়ি থেকে একটু দূরে ছিল। বাথরুমের পাশে ছিল একটি ছোট বাঁশ বাগান। তার পাশে ছিল আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। তাই বাথরুম করার জন্য আম্মুকে ঘুম থেকে জাগিয়ে টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলি।

আম্মু  আমাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। আমি বাথরুমে ঢুকার পর আম্মু পাশের বাথরুমে যায়। আমার বাথরুমে আগে শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি আম্মুকে রেখেই চলে আসি এবং রীতিমত ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আর ঠিক ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পর প্রচন্ড চিৎকারে ঘুম ভেঙে গায়। বাহিরে গিয়ে দেখি আম্মুকে আমার চাচারা ধরে রুমের ভিতরে আনছে। 

আমি ছোট থাকায় আমাকে কেউ কিছু বুঝতে দেয় না। তাই আমি আবার ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আম্মু চিল্লা চিল্লি করেছে বলছে," ওই আমারে কেউ বাঁচাও! আমার হাত ওই কুত্তাই খেয়ে ফেললো। আমাকে বাঁচাও " বার বার এই ধরণের কথা বলে চিল্লা চিল্লি করতে থাকে। তখন আমি জানতে পারি যে, কাল রাতে বাথরুম থেকে আম্মুকে কিছু একটা ধরেছে।

এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। অনেক ফকির কবিরাজ দেখিয়েও কোনো লাভ হয় না। এক আমাদের বাড়ি পাশে একটি তান্ত্রিক আসে। আমরা খবর পেয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আম্মুকে দেখে বলে একে খুবই শক্তিশালী জিন ধরেছে। ওই রাতে তান্ত্রিক বাড়ির সকল লাইট অফ করে কি কি নাকি করে। তার পর থেকে আম্মু পুরা পুরি সুস্থ হয়ে যায়। 

তারপর আম্মুর মুখ থেকে ওই রাতের ঘটনাটা শুনি। আম্মু বলেন, যখন আমাকে বাথরুমে দিয়ে সে পাশের বাথরুমে যায়। তখন বাথরুমের উপর থেকে হাড় চাবানোর একটি একটি শব্দ শুনতে পায়। আম্মু তাড়াতাড়ি বাথরুম সেরে বেরিয়ে দেখে আমি চলে গেছি। তখন আম্মু পিছনা তাকিয়ে দেখে বাথরুমের উপর থেকে একটি লাল চোখ আলা কুকুর তার দিকে ভয়ংকর দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে রয়েছে।

আম্মু ইটা দেখে দৌড় দিবে ঠিক সেই সময় কুরুরটি লাফ মেয়ে আম্মুর হাতের উপর কামড় দেয়। তার পর আম্মুর আর মনে নেই। কিন্তু আমরা যখন আম্মুকে উঠানে পেয়েছিলাম তখন আম্মুর হাতে কোনো কামড়ের চিহ্ন পাইনি। তারপর টানা 20 বছর আর কোনো সমস্যা হয় নিই। তারপর হটাৎ একদিন আমার জীবনের নেমে এলো অন্ধকার রাত। 

ভয়ংকর  ভুতের গল্প || Voyonkor Bangla Bhuter Golpo Episode 1

আমি সারাদিন বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা মেরে সময় কাটাতাম। কারণ আমাদের গ্রামে কোনো স্কুল ছিল না যে আমি স্কুলে যাবো। একদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাড়িতে এসে দেখি মা খুবই রেগে আছেন। আমি প্রশ্ন করতে আমাকে বোকা ঝকা দিলে লাগলো। বললো, তোর বাবা পেশায় একজন মাঝি। অনেক কষ্ট করে আমাদের পরিবার চালায়। আর তুই সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাস। তোর বাবার সাথে একটু নৌকা চালাতে তো আমাদের সংসারটা ভালো ভাবে চলে।

আমি মায়ের কোথায় রেগে গিয়ে বাবার নৌকা নিয়ে নদীতে মানুষ পারাপার শুরু করি। কারণ ওই দিন বাবা অসুস্থ থাকায় নৌকা চালাতে যায় নিই। মায়ের সাথে রাগ রাগী করার জন্য দুপুরে বাসায় যায়নি। বেলা ২টা বাজে তখন একজন লোক এসে বলল অমুক জায়গায় যাবে? তিনি যে ঠিকানার কথা বলেছিলো সেটা এখান থেকে প্রায় ৩ ঘন্টার পথ। আমি জায়গাটা চিনতাম তাই আর না করি নিই। কারণ, মায়ের সাথে রাগারাগি করে এসেছি তাই বাড়িতে যেতে ইচ্ছা করছিলো না। 

তারপর লোকটিকে নিয়ে সেই জায়গার উদ্যেশে রওনা হয়। সেখানে যেতে যেতে প্রায় সন্ধ্যা নেমে যায়। লোকটাকে সেখানে নামিয়ে দিয়ে আমি ও নৌকা থেকে নেমে বাজার থেকে রুটি আর কলা কিনে নৌকাতে বসে খাচ্ছিলাম। কারণ, সারাদিন কিছুই খাইনি মায়ের সাথে রাগারাগি করে। আর ঠিক তখনি একটা লোক এসে বললো এই যাবে? আমি বললাম কোথায় যাবেন?

লোকটি আমাকে যে ঠিকানার কথা বললো সেটা আমার পাশের গ্রাম। ওই গ্রাম থেকে আমার গ্রামে আস্তে একটি কবরস্থান পড়ে। যাইহোক,মনে মনে ভাবলাম যাক ভালোই হলো। বাড়ি যাওয়ার একজন সঙ্গী সাথে কিছু টাকাও পেলাম। এই ভেবে লোকটিকে নিয়ে রওনা হলাম। তাকে তার বাড়িতে নামিয়ে দিলে লোকটি আমাকে বললো তুমি একা একা বাড়ি যেতে পারবে না,আজ রাত আমার বাড়িতে থেকে যাও। আমি ভাবলাম বাড়ি থেকে রাগারাগি করে আসছি। বাড়িতে না গেলে আম্মু আব্বু টেনশন করবে।

তাই লোকটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়িয়ে দিকে রওনা হয়ে গেলাম। কিন্তু যতই সামনের দিকে যাচ্ছি ততই গাটা কেমন যেন ভারী হয়ে হয়ে যাচ্ছে। মনে মনে আল্লাহর নাম নিয়ে সামনের দিকে বাড়তে শুরু করলাম। যখনি নদীর মোড় ঘুরে ওই কবরস্থানের সোজা নৌকা চালাতে লাগলাম তখই দূর থেকে কবরস্থানের মধ্যে তিনটি সাদা বাতির মত জ্বলতে দেখলাম। মনে মনে ভাবলাম হয়তো চাঁদের আলোতে এমনটা মনে হচ্ছে। 

কিন্তু যখন আরো একটু সামনে আগালাম তখন ইস্পষ্ট দেখতে পেলাম তিনজন সাদা পাঞ্জাবি পড়া লম্বা লম্বা মানুষ হাতে কুদালের মতো কি জানি। তার মাটি খুঁড়ছে। ভাবলাম কেউ হয়তো মারা গেছে তাই কবর খুঁড়ছে। তবুও মনের ভিতর একটু ভয় ভয় লাগছিলো। তাই নৌকাটা কবরস্থান থেকে একটু দূরদিয়ে চালাচ্ছিলাম। 

হটাৎ আমার ডান দিক থেকে প্রচন্ড বাতাস এসে আমার নৌকাটাকে যেন ঠেলে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি আমার শরিলের সমস্ত শক্তি দিয়ে নৌকাতে আবার ডান দিকে নেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু বার্থ হলাম। অবশেষে জোরে জোরে সূরা কালাম পড়তে শুরু করলাম। কিন্তু তখনি আমার গলার আওয়াজ শুনে ওই তিনজন ভয়ঙ্কর দৃষ্টি দিয়ে আমার দিকে ফিরে তাকায়।

তআমি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখি, তারা আসলে কোনো মানুষ না। তাদের চেহারাটা পশুর মতো চোখগুলি যেন আগুনের গোল্লা এবং পুরো শরীলে পশম দিয়ে ভরা। আর ততক্ষনে আমার নৌকাটা তাদের পাশে এসে ধাক্কা খায়। আমি কোনো কিছু না ভেবে ভয়ে নৌকা থেকে নেমে আমার হাতের বৈঠা দিয়ে আল্লাহু আকবার বলে আমার শরিলের সকল শক্তিদিয়ে তাদেরকে পিটাতে শুরু করলাম।

আমার মারের কারণে তারা তাদের কুদাল ও মাটির হাড়ি রেখে চিৎকার করে পানিতে লাফদিয়ে চলে গেলো। আমি কবরের দিকে তাকিয়ে দেখি একটি লাশের অর্ধেক মাটির উপরে উঠানো এবং পাশে কিছু মিষ্টির হাঁড়ি পড়ে আছে। আমি দ্রুত সেখান থেকে নৌকা নিয়ে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হয়। কিন্তু আমার পিছন থেকে মনে হচ্ছে কেউ যেন পানির নিচ থেকে এইবুঝি টানে নিয়ে যাবে।

এভাবে ভয়ে ভয়ে কিছু দূরে যাওয়ার পর দেখি একজন লোক মাছ ধরছে। আমাকে দেখে বললো, এই কে তুমি ? তোমার বাড়ি কথাই ? আমি ভয়ে ভয়ে আমার পরিচয় লোকটি আমাকে কাছে আস্তে বলে। আমি ভয়ে পেয়ে তাকে বলি আমি তো আপনার কোনো ক্ষতি করিনি এ দয়া করে আমাকে যেতে দিন। এই কথা বললে লোকটি আমাকে ধমক দিয়ে বলে যা বলছি তাই শুনো।

আমি নৌকাটা তার পাশে নিয়ে যায়। বৃদ্ধ লোকটি আমাকে ধরে বলে কাপড় খুলে পানিতে নাম। আমি আরো ভয় পেয়ে গেলাম এবং লোকটির কাছে অনুনয় বিনয় করে বলতে লাগলাম, দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনার কোনো ক্ষতি করি নিই। লোকটি আবারো ধমক দিয়ে আমাকে পানিতে নামিয়ে গোসল করলো এবং নদীর পাশে থাকা একটি ছোট্ট টং এর ভিতর নিয়ে গিয়ে কিজানি বির বির করছে এবং আমার গায়ে ফুঁ দিচ্ছে।

এর কিছুক্ষন পর আমার শরিল জ্বরে পুড়ে যেতে লাগলো এবং নদীতে মনে হচ্ছিলো সুনামি শুরু হয়ে গেছে। আসে পাশের প্রচন্ড বাতাশ বইতে শুরু করে। লোকটি আমাকে দুটি কাঁথা দিয়ে ঢেকে দেয়। এভাবে ফজর পর্যন্ত আমার শরীলে প্রচন্ড জ্বর এবং নদীর সুনামি চলতে থাকে। যখনি ফজরের আযান শুরু হয় এর কিছুক্ষন পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আমার জোর ভালো হয়ে যায়।

এরপর লোকটি আমাকে বলে, মিয়া তুমি কি পাগল? আমি এইখানে ১০ বছর ধরে তাদেরকে দেখছি তারা মাঝে মাঝে আমার কাছ থেকে মাছ দিয়ে যায়। আমি আজ পর্যন্ত কিছু বলতে পারিনি আর তুমি ওদেরকে মেরেছো। তোমার তো সাহস কম না। ওই তিনজন জীন যখন প্রথম কবরে তখই আমি ওদেরকে দেখেছি। আমি কিছু বলিনি। 

আমি তোমার বাবাকে চিনি বলে আজ তুমি বেঁচে গেলে। তা না হলে ওরা যেভাবে তোমার পিছু নিয়েছিল। তুমি আর একটু সামনে গেলেই তোমাকে মেরে ফেলতো। এই কথা বলে লোকটি আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে। তারপর আমার মা হুজুরের কাছ থেকে পানি পড়া এনে দেয়। তারপর আর কোনো সমস্যা হয়নি। এখন আমি দেশের বাহিরে থাকি।   

LihatTutupKomentar